Eso Kichu Kori
Eso Kichu Kori4 weeks ago
গত ১৩ ই জুন, 'এসো কিছু করি' আয়োজন করেছিল 'হৃদমাঝারে' নামে একটি মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের, সম্পূর্ণভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে।

সদ্য হয়ে যাওয়া আমফান ঘূর্ণিঝড়ে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রকোপে আজ অসংখ্য মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। তাদের খাদ্য, এমনকি পর্যাপ্ত পানীয় জলেরও সংস্থান নেই। এই অবস্থায় সরকারের ত্রাণকার্যের সাথে সাথেই বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও নেমে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে। "এসো কিছু করি"-র বহু বর্তমান আর প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরাও ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা তাদের নিয়মিত খবর নিচ্ছি। সদস্য - স্বেচ্ছাসেবকরা মিলে কিছু টাকাও তুলেছি। যাদের বাড়ি ভেঙে গেছে তারা যাতে অন্তত তাদের বাসস্থান টা সুরক্ষিত করতে পারে সেই চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রয়োজন ছিল আরও বড় মাপের কিছু করার৷ করোনার সময় সকলেই ঘরবন্দী। এই অবস্থায় কী করা যায়, সেই ভাবনার মধ্যেই জার্মানি-প্রবাসী দীপ আর সংহিতার কাছ থেকে প্রস্তাব আসে অনলাইনে একটা fund raising অনুষ্ঠান করার। দীপ, সংহিতা এবং "এসো কিছু করি" -র সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা সবাই মিলে ঝাঁপিয়ে পড়ে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা, আয়োজন, প্রচার আর টিকিট বিক্রিতে। সঙ্গে এগিয়ে আসেন সম-মনস্ক আরও কিছু সংস্থা যাঁরা এই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য নিরন্তর কাজ করে চলেছেন।

১৩-ই জুন ভারতীয় সময় রাত ন'টায় এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। এই প্রচেষ্টায় প্রযুক্তিগত সহায়তা করেছেন বেঙ্গল ওয়েব সলিউশন । দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ যারা টিকিট কেটে রেখেছিলেন তারা নিজের নিজের বাড়িতে আসন গ্রহণ করেন। সকলের কম্পিউটার বা মোবাইলে ভেসে ওঠে হৃদয়, লক্ষ্মী, তরুণ সহ এই সংস্থার একঝাঁক পুরোনো ছাত্রছাত্রীদের ছবি। তারা জানায় কিভাবে "এসো কিছু করি" তাদের প্রয়োজনের সময়ে পাশে থেকেছে আর আজ তারা কিভাবে "এসো কিছু করি"- র পাশে থাকছে। যথাযথ সময়ে স্টেজ থেকে পর্দা ওঠে। সঞ্চালক সুজয়নীলের ভরাট কন্ঠস্বর সবাইকে স্বাগত জানায়। আলাপচারিতা শুরু হয় এই অনুষ্ঠানের অন্যতম সংগঠক দীপ নাগ আর " এসো কিছু করি"- র সভাপতি মধুমিতা দত্তের সাথে। দীপ জানায় সূদুর জার্মানিতে বসে কিভাবে এইরকম একটা অনুষ্ঠানের কথা তার মাথায় আসে। মধুমিতাদি জানায় EKK -র শুরুর দিনের কথা। আজ আমফানে আমাদের যেসব ছাত্রছাত্রীদের ঘরের চাল উড়ে গেছে, সমস্ত আসবাবের সাথে পড়ার বইগুলোও ভিজে পাতা ফুলে গেছে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত আর তাই পুরো team EKK এই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

এরপর অনুষ্ঠান শুরু হয় দেবপ্রিয়া চক্রবর্তীর গলায় "তোমায় হৃদ মাঝারে রাখবো" গান দিয়ে। অনুষ্ঠানের নামের সাথে সঙ্গতি রেখে এটাই ছিল উদ্বোধনী সঙ্গীত আর তারপরেই উনি গান "আগুনের পরশমণি" যে গান গেয়ে "এসো কিছু করি"- র সমস্ত অনুষ্ঠান শুরু হয়। দেবপ্রিয়ার গান এই অনুষ্ঠানের তার টা বেঁধে দেয়। মূল পর্বের অনুষ্ঠানে প্রথম অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট নাট্যকার ও বাচিক শিল্পী শ্রী সৌমিত্র মিত্র। বাংলা থিয়েটারের বিবর্তন, ঘরবন্দী সময়ে পড়া কিছু বই, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা আবৃত্তি ইত্যাদির সমন্বয়ে একটা মনোগ্রাহী কথোপকথন হয় যা দর্শকদের সমৃদ্ধ করে। নানা অজানা কথা আমরা জানতে পারি। যেমন, একবার বেড়াতে গিয়ে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের প্রকাশক বন্ধু ইন্দ্রনাথ বীরভূমের জঙ্গলে হারিয়ে যান, তিন দিন পর্যন্ত তার কোনও খোঁজ ছিল না। সেই খোঁজ আর ইন্দ্র নামের প্রতিধ্বনি নিয়েই শক্তি একটি বিখ্যাত কবিতা লিখে ফেলেন।

অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্যায়ে তিনটি রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনান কুমকুম বাগচি। দেশ, পূজা আর প্রেম পর্যায়ের তিনটি গান দর্শকরা খুবই উপভোগ করেন।

এরপরে মঞ্চে আসেন জগন্নাথ বসু এবং ঊর্মিমালা বসু। ছোটবেলা থেকেই আমরা সবাই ওনাদের শ্রুতিনাটক শুনে বড় হয়েছি। আকাশবাণীর স্বর্ণযুগে যে কন্ঠ যাদু জাগাতো আবারও সেই কন্ঠস্বর মুগ্ধ করলো আমাদের। এই সময় কিভাবে কাটাচ্ছেন সেই নিয়ে কথা শুরু হল। বয়সের কারণে এখন সরাসরি দুর্গতদের পাশে যেতে না পারলেও এরকম অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সবসময় আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার কথা জানালেন ওনারা। জগন্নাথ বাবুর মুখে শুনলাম মিউনিখের বরফ আর রানাঘাটের পান্তুয়ার কথা৷ দু'জনেই এই সময়ের উপযোগী একটা করে কবিতা আবৃত্তি করলেন। তারপরে শোনালেন শ্রুতিনাটক, প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা "ইকেবানা"। শ্রুতিনাটক কিভাবে পড়াশুনোর সুযোগ না পাওয়া অসংখ্য প্রান্তিক মানুষের কাছে সাহিত্যের স্বাদ পৌঁছে দিয়েছে আলোচনায় উঠে এলো সেই কথাও৷

অনুষ্ঠানে পরের অতিথি ছিলেন গবেষক এবং সমাজকর্মী ডক্টর দুর্বা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমফান রিলিফের জন্য সুন্দরবনে গিয়ে ওনার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিলেন তিনি। এর মধ্যে শোনালেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়, শঙ্খ ঘোষ আর শ্রীজাত র লেখা তিনটি কবিতা।

এরপর মঞ্চে আসেন গায়িকা সায়নী পালিত। পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর ছাত্রী, বর্তমানে হিন্দি ও বাংলা ছবির প্লেব্যাক সিঙ্গার সায়নী কিন্তু নিজের একটাও গান না গেয়ে অনুষ্ঠানের আবহকে ধরে মান্না দে-র গান দিয়ে শুরু করলেন। সমগ্র দর্শকমণ্ডলীকে সুরের মূর্ছনায় ডুবিয়ে দিয়ে শেষ করলেন আশা-র কথা শুনিয়ে। "যতই বড় হোক রাত্রি কালো, জানবে ততই কাছে ভোরেরও আলো।" আশা ভোঁসলের গাওয়া অত্যন্ত জনপ্রিয় "তোলো ছিন্নবিনা..." যেন আমাদের লড়ার ভাবনাকেই প্রতিফলিত করছিল।

একদম শেষ পর্বে একটা আড্ডা হয় সমাজের বিশিষ্ট তিনজন ব্যক্তিত্বের সাথে। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক, সমাজসেবী ও নাট্যকর্মী ডক্টর অর্জুন দাশগুপ্ত। তাঁর সাথেই ছিলেন এ'সময়কার ব্যস্ততম চিত্রনাট্যকার, অভিনেতা, নাট্যকর্মী, সঞ্চালক পদ্মনাভ দাশগুপ্ত। আরও ছিলেন বিখ্যাত পরিচালক ও নাট্যকর্মী দেবেশ চট্টোপাধ্যায়। এই পুরো আড্ডাটাই যেন এই সময়ের দলিল হয়ে থেকে গেল। এই গৃহবন্দী অবস্থাও কিন্তু কারুর সৃজনশীলতাকে আটকে রাখতে পারেনি। পদ্মনাভ লিখে ফেলেছেন একটা গোটা উপন্যাস এই সময়ের ওপরে। দেবেশও জানালেন যে ছোটদের জন্য একটা বই লিখেছেন আর সাতটা স্বল্প দৈর্ঘের ছবি বানিয়ে ফেলেছেন। এছাড়াও পুরোনো হারিয়ে যাওয়া অনেক থিয়েটার আর যাত্রার ডকুমেন্টেশনের কাজেও হাত দিয়েছেন। ডাক্তার অর্জুন দাশগুপ্ত এর মধ্যে ছুটে গেছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলে মেডিক্যাল ক্যাম্প করতে। সবার কথাতেই ছিল আশাবাদ। নতুন কাজ করতে হবে। এই সময় টাকে ধরে রাখতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষ হয় সংগঠকদের সাথে একটা আলাপচারিতার মাধ্যমে। দীপ আর মধুমিতা দত্ত-র সাথে সেখানে উপস্থিত ছিল সংহিতা দত্তও যিনি প্রচুর পরিশ্রম করেছেন এই অনুষ্ঠান সফল করার জন্য। আর এদের কথার মধ্যে দিয়ে বারবার উঠে এসেছে আর একজন মানুষের নাম যিনি নিজেকে আড়ালে রাখতে চেয়েছেন কিন্তু এই সমগ্র আয়োজনটা তিনি না থাকলে হতই না। তিনি আমাদের সবার প্রিয় "এসো কিছু করি"-র ওঙ্কার দা।

এই অনুষ্ঠান থেকে আমরা কী পেলাম? একটা সুন্দর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা বা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো তো আছেই কিন্তু তার সাথেই এই কয়েক ঘন্টায় এই সময়ের একটা ডকুমেন্টেশন ধরা রইলো। এই অভূতপূর্ব সময়ে সমাজের বিভিন্ন মানুষ কী ভাবছেন কিভাবে লড়ছেন। সংস্থা হিসেবে "এসো কিছু করি" কী ভাবছে তা রেখে দেওয়া গেলো আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। একদিন আমরা এই ঝড় কাটিয়ে শান্ত পৃথিবীতে মাথা তুলে দাঁড়াবো। তখনকার জন্য কিছু তথ্য বন্দী হয়ে রইলো এই অনুষ্ঠানের ভিডিওতে। দেশ-বিদেশের কত মানুষ আমাদের পাশে এসে দাঁড়ালেন। আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেলো যে এই অবস্থা আমরা কাটিয়ে উঠবোই। এই অনুষ্ঠানেই জগন্নাথ বসুর আবৃত্তি করা কবি রনজিৎ দাস এর লাইন ধার করে বলতে পারি "বিপন্ন বিস্ময় থেকে আমরা যেন পৌঁছে যেতে পারি বিশুদ্ধ বিস্ময়ে"।
Eso Kichu Kori
Eso Kichu Kori1 month ago
“এসো কিছু করি” (www.ekk.org.in) একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। এই সংস্থা গত তেরো বছর ধরে বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অভাবী মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার সহায়ক হয়ে নিরন্তর কাজ করে চলেছে। “এসো কিছু করি” পরিবারের ছেলেমেয়েরা আজ অনেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। আমাদের সদস্যরা সমাজের ও দেশের যে কোনো সমস্যা নিয়ে সংবেদনশীল । কিন্তু সংস্থাগত ভাবে আমাদের কর্মকাণ্ড ‘এসো কিছু করি’র মূল লক্ষ্যেই অঙ্গীকারবদ্ধ।

সম্প্রতি একটি কালান্তক ঘুর্ণীঝড়, “আম্ফান”-এ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চল অসম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত। একদিকে মহামারীর করাল গ্রাস, অর্থনৈতিক সঙ্কট, দিনগুজরানের চরমতম সমস্যা, তার ওপর ঘুর্নীঝড়ের ভয়াল ক্ষয়ক্ষতি ও তার পরবর্তী জনস্বাস্থ্যের ওপর আগত সমস্যাগুলো আমাদের সদস্যদের ভাবিয়ে তুলেছে। ‘এসো কিছু করি” পরিবারের বহু ছাত্রছাত্রীদের ঘরবাড়ি এই ঘূর্ণীঝড়ের প্রকোপে তছনছ হয়ে গিয়েছে। আমাদের সদস্যরা এবং প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা, নিজেরা চাঁদা তুলে বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা পাশ করে গেছে তারা এখনো “এসো কিছু করি” পরিবারের অবিচ্ছিন্ন অঙ্গ। তাদেরও অনেকের বাড়িঘরের দশা অনুরূপ। আমরা চাইছিলাম তাদের পাশেও দাঁড়াতে।

এমত অবস্থায় জার্মানির মিউনিখ শহর থেকে এক তরুণ, শ্রী দীপ নাগ ও তার সহপাঠিনী শ্রীমতী সংহিতা দত্ত, আম্ফান বিধ্বস্ত বাংলায় কিছু অর্থ সাহায্যের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের একটি উদ্যোগ নেন । প্রবাসী ভারতীয় সংহিতা দীর্ঘদিন “এসো কিছু করি”-র পৃষ্ঠপোষক। তিনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

সিদ্ধান্ত হয় যে, যেহেতু অনুষ্ঠানটি আম্ফান বিদ্ধস্ত মানুষের সাহায্যের জন্য, তাই “এসো কিছু করি”-র ছাত্রছাত্রীদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত যে অর্থমূল্য উঠবে তা নির্ভরযোগ্য অন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনদের ভাগ করে দেওয়া হবে। ঝড় পরবর্তী অবস্থা মোকাবিলার জন্য বাংলার বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্নভাবে নিরন্তর চেষ্টা করে চলেছেন। এরকম বহু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নাম ভাবা হয় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, মহামারীর মাঝে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে যাঁরা কাজ করছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের আশু কর্তব্য। ওয়েষ্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম (WBDF) এই বিষয়ে এই মুহূর্তে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গত কয়েকদিনে সারা সুন্দরবন জুড়ে তাঁরা প্রায় ৭০টি ক্যাম্প করেছেন এবং আগামীদিনেও একাধিক উদ্যোগ নিচ্ছেন। আমরা আমাদের বাড়তি অর্থমূল্য তাদের হাতে তুলে দেব। এছাড়াও আরো যে সমস্ত সংস্থা এই ক্ষেত্রে কাজ করে চলেছেন এবং তাঁদেরও টাকাপয়সার প্রয়োজন আছে। যদি এই অনুষ্ঠান থেকে সেই পরিমাণ টাকা আসে তাহলে আমরা এরকম কিছু সংস্থার পাশেও থাকবো।

আমরা কৃতজ্ঞ আমাদের এই উদ্যোগের পাশে দাঁড়িয়েছেন বহু শিল্পী ও কৃতী মানুষ। শ্রী সৌমিত্র মিত্র, বাচিক শিল্পী, সংগঠক ও নাট্যনির্দেশক; শ্রীমতী দূর্বা বন্দোপাধ্যায়, গবেষক ও সমাজকর্মী; শ্রী পদ্মনাভ দাশগুপ্ত, অভিনেতা, নাট্যকার ও চিত্রনাট্যকার; শ্রী দেবেশ চট্টোপাধ্যায়, নাটক ও চলচ্চিত্র নির্দেশক; শ্রীমতী কুমকুম বাগচি, সঙ্গীতশিল্পী; শ্রীমতী সায়নী পালিত, সঙ্গীতশিল্পী; ডাঃ অর্জুন দাশগুপ্ত, প্রখ্যাত চিকিৎসক ও নাট্যকর্মী; শ্রীমতী মধুমিতা দত্ত, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী এবং সর্বোপরি শ্রীমতী ঊর্মিমালা বসু ও শ্রী জগন্নাথ বসু থাকছেন আমাদের এই উদ্যোগে আমাদের অনুষ্ঠানে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্বে আছেন শ্রী সুজয়নীল বন্দোপাধ্যায়।

আমাদের বিনীত অনুরোধ আপনারা আমাদের এই উদ্যোগের পাশে থাকুন। ১৩ই জুন ভারতীয় সময় রাত্রি ৯টায় ( সকাল ১০.৩০ আমেরিকার সেন্ট্রাল টাইম, বিকাল ৪:৩০ ব্রিটিশ সামার টাইম)

টিকিটের জন্য নিচের লিঙ্ক এ ক্লিক করুন
https://musianamiles.com/hrid-majhare/reg.php
Eso Kichu Kori
Eso Kichu Kori1 month ago
'এসো কিছু করি' বরাবরই তার ছাত্রছাত্রীদের সার্বিক উন্নয়নের প্রতি দ্বায়বদ্ধ। সবরকম সমস্যাতেই আমরা ওদের পাশে থাকতে চাই। তাই প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমফান দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করার পর আমরা আমাদের বর্তমান ২০১৯-২১ ব্যাচের স্টুডেন্টদের ফোন করে তাদের অবস্থা সম্পর্কে খবর নিই। সবার সাথে কথা বলে আমরা বুঝি যে আমাদের পাঁচজন ছাত্রছাত্রীর বাড়িতে এই ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই মুহূর্তে বাড়ির মেরামতি করতে হবে অথচ করোনা পরবর্তী সময়ে সকলেই বেশ অর্থকষ্টে আছে। আমরা 'এসো কিছু করি'-র সদস্য-স্বেচ্ছাসেবকরা তাই নিজেরা কিছু টাকা তুলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করি। এককালীন কিছু টাকা পেলে তা বাড়ি মেরামতির কাজে লাগানো যাবে এই ছিল মূল ভাবনা। আমাদের কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হল EKK-র প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরাও খুব উৎসাহের সাথে এতে যোগদান করেছে। 'এসো কিছু করি'-র জন্মলগ্ন থেকেই আমরা চেয়েছি আমাদের আজকের ছাত্ররাই কালকের দায়িত্ব নিক। আমরা চেয়েছি শুধু ভালো রেজাল্ট করে ভালো চাকরি পাওয়াই নয় তারা যেন সমাজের প্রতি দ্বায়বদ্ধ থাকে। তাই আজ যখন চন্দন, লক্ষ্মী, অভিষেক, শিল্পী, পার্থ, অমিত রা এগিয়ে এসে কল্যাণী খালুয়া, অঞ্জন মাইতি, সায়ন গড়াই, তন্ময় জানা আর অর্পিতা প্রধানের পাশে দাঁড়ালো তখন মনে হয় আমাদের এই চেষ্টা কিছুটা সার্থক হয়েছে।
Eso Kichu Kori
Eso Kichu Kori6 months ago
If you care about spreading education among needy but meritorious students, please consider donating! We are always looking for volunteers.

Know more about Eso Kichu Kori. www.ekk.org.in
Eso Kichu Kori
Eso Kichu Kori7 months ago
সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে শাল, পিয়াল আর আকাশমণি গাছগুলো। তাদের রকমারি শেডের সবুজের ফাঁক থেকে একতলা স্কুলবাড়িটা দেখেই মনটা ভারী ভালো হয়ে গেলো। আমরা পাঁচজন এগিয়ে গেলাম ভারী সুন্দর স্কুলবাড়ির সামনে।ছাদের কাছে দেওয়ালে লেখা রয়েছে, “বিষ্ণুপুর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাঁকসা, স্থাপিত ১৯৪৮”। স্কুলের সামনে কয়েকজন মাস্টারমশাই, শিক্ষাকর্মী এবং গ্রামের কিছু গণ্যমান্য মানুষ আমাদের জন্যেই অপেক্ষা করছেন। আর ছিলেন, রবিলাল বাবু, যাঁর জন্য আমাদের এতদূর আসা।

পশ্চিমবাংলায় দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে শিক্ষার প্রসারের জন্য বহু মানুষ অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। প্রতিবছর আমরা এরকমই একজন অগ্রণীকে “বরেণ্য সম্মান” দিয়ে আমরা আমাদের শ্রদ্ধা জানাই। অনেক আলাপ আলোচনার পরে ঠিক হয়েছিল এই বছরের “এসো কিছু করি”-র পক্ষ থেকে বরেণ্য সম্মান দেওয়া হবে শ্রদ্ধেয় রবিলাল গড়াইকে। তিনি আজ থেকে তেরো বছর আগে অবসর নিয়েছেন। সম্পূর্ণভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। বয়েসের ভারে ন্যুব্জ। কিন্তু এই দৃষ্টিহীন শিক্ষক আজও প্রতিদিন পৌঁছে যান স্কুলে, বিনা পারিশ্রমিকে প্রতিদিন গ্রামের ছোট্ট ছাত্রছাত্রীদের কাছে পৌঁছে দেন শিক্ষার আলো। তাই, এমন মানুষকে সংবর্ধনা না দিয়ে পারা যায়?

আমি (Soumya Maity), মধুমিতাদি (Madhumita Datta), কৌশিকদা (Kaushik Mukherjee), পিকু (Sourav Biswas) আর বৈশালী (Vaishali Bhattacharya) – আমরা পাঁচজন সকাল সকাল বেরিয়ে পড়েছিলাম দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে। কৌশিকদা, শক্ত হাতে জাহাজের হাল ধরে থাকেন, আজ ধরেছেন স্টিয়ারিং। সাংবাদিক মধুমিতাদির ঝুলিতে হাজার হাজার অভিজ্ঞতা, সেসব নিয়ে বলতে শুরু করলে আড্ডা কোনোদিনই থামে না। আমার আর পিকুর সবকিছুতেই অসীম আগ্রহ। বৈশালী কম কথা বলে আর ভারী মিষ্টি মেয়ে। খুব মনোযোগ দিয়ে সবার সব কথা শুনে যায় আর মিটিমিটি হাসে। তাই আড্ডা মারতে মারতে কখন দুর্গাপুরের কাছাকাছি এসে পড়লাম টের-ও পেলাম না। যেতে হবে মলানদীঘি। প্রত্যন্ত গ্রামের রাস্তায় গুগল ম্যাপের ওপর বেশী ভরসা করা যায় না। তাই আমাদের রিমোট-সাপোর্ট দিতে ভরসা ছিল হৃদয় (Hriday Bhattacharjee), সেই সুদূর কানাডা থেকে। হৃদয়ের বাড়ি কাছাকাছি কোন গ্রামে। সেইজন্য বেচারাকে মাঝরাতে ঘুম থেকে ডেকে বার বার ফোন করে করে আমরা রাস্তা জিগেস করে চলেছি। হৃদয়ও হাসি মুখে বলে গেলো, কোন এক্সিট নিতে হবে, গ্রামের রাস্তায় কোন দিকে যেতে হবে, জঙ্গলের মধ্যে কোন বাঁকটা নিতে হবে ইত্যাদি। হৃদয়ের নির্দেশমতো আমরা পৌঁছলাম হাতির মূর্তি আঁকা একটা বিরাট তোরণের নীচে। আমাদের নিতে এসেছিলেন, রবিলালবাবুর ছেলে বিধান বাবু। উনি জানিয়েছিলেন যেখানে রবিলালবাবু পড়ান, সেই স্কুলেই ওনার সংবর্ধনার ব্যাবস্থা করা হয়েছে। আঁকাবাঁকা সরু পথ ধরে, গ্রামের ভিতরে কারুর বাড়ির উঠোনের ওপর দিয়ে, কারুর বিয়েবাড়ির প্যান্ডেলের ভেতর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে আমরা পৌঁছলাম।
প্রাথমিক আলাপ পরিচয় সারা হল। সত্তরোর্ধ রবিলাল বাবু, দৃষ্টিহীন। চলতে পারেন না ঠিক করে। বয়সজনিত কারনে হাত কাঁপে। সহজে ধরতে পারেন না কিছু। তবু ওনার চেহারাতে গ্রামীণ অথচ বুদ্ধিদীপ্ত একটা ছাপ রয়েছে। একটা নাছোড়বান্দা ঋজুতা রয়েছে। সঙ্গে ছিলেন স্কুল পরিচালন কমিটির সদস্যরা, অন্যান্য শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীরা। আর অবশ্যই কিছু উৎসাহী ছাত্রছাত্রীর দল। তারাও এই রবিবার স্কুলে এসে হাজির হয়েছে। তাদের সঙ্গেও কথা হল। এই যেমন, ক্লাস ওয়ানের সৌম্যজিত গড়াই। ওর মনে হয়েছে “মাস্টারমশাইকে ঠিক কী দেওয়া হবে বটে” সেটা একটু জানা দরকার। সংবর্ধনা, বরেণ্য-সম্মান – এসব বেচারার ছোট্ট মাথায় ঢোকেনি। ক্লাস ফোরের অনিমেষ-ও অনেকক্ষণ ধরে অবাক চোখে আমাদের লক্ষ্য করছিলো। তাকে ডেকে আমার মোবাইল ফোনটা ধরিয়ে অনুষ্ঠানের ফটোগ্রাফার বানিয়ে দেওয়া হল।

শুরু হল আমাদের ছোট্ট অনুষ্ঠান। কৌশিকদা, আমাদের সাধারন সম্পাদক, বরেণ্য সম্মান কী এবং কেন সেটা দেওয়া হয় সেটা জানালেন। সঙ্গে “এসো কিছু করি” কীভাবে বাংলার অভাবী এবং মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য কাজ করছে সেটা বললেন। এরপর বরেন্য সম্মান হিসবের রবিলাল বাবুর হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি স্মারক, মানপত্র, ব্রেইল-পদ্ধতিতে পড়া যায় এমন একটা হাতঘড়ি, একটি খাদির জ্যাকেট। আর উপস্থিত সবার জন্য আমরা নিয়ে গেছিলাম শক্তিগড়ের বিখ্যাত ল্যাংচা।

রবিলাল বাবু জানালেন, জীবনের সঙ্গে তাঁর অসম যুদ্ধের কথা। সেই ১৯৭৮ সাল থেকে এই স্কুলে পড়াচ্ছেন। স্কুলের সামনে যে গাছগুলো দেখে আমরা এতো আনন্দিত হয়ে পড়েছিলাম, সেগুলো ওনার হাতেই লাগানো। প্রায় পঁচিশ তিরিশ বছর ধরে নিজের হাতে পরিচর্যা করেন গাছগুলোর। যেমন তিনি গ্রামের ক্ষুদে ছেলেমেয়েদের পরিচর্যা করেন। তাদের প্রাথমিক শিক্ষার ভার তুলে নিয়েছেন বিগত পাঁচটা দশক ধরে। এই গ্রামের কয়েক প্রজন্মের প্রায় সবাই তাঁর ছাত্র বা ছাত্রী। সেটাও গর্বের সঙ্গে জানালেন। এখনও ক্লাসে ঢুকলে সব ছাত্রছাত্রীরা চুপ করে নিজেদের ডেস্কে বসে যায়। চোখে না দেখতে পেলেও ক্লাসে তাদের সামলাতে একটুও কষ্ট হয় না। অন্যান্য মাস্টারমশাইরা জানালেন, রবিলাল বাবুকে ছাড়া এই স্কুল তাঁরা ভাবতেও পারেন না। স্কুলে শিক্ষক কম। তাই অবসরের পরেও প্রতিদিন তাঁর স্কুলে আসায় খুবই সুবিধে হয়। আমাদের জানানো সম্মান এবং উপহার পেয়ে দৃশ্যতই খুব খুশী হয়েছেন এই দৃষ্টিহীন বৃদ্ধ শিক্ষক। ওনার অনুরোধে একবার ওনার বাড়িতেও যেতে হল। ভারী সুন্দর সাজানো বাড়ি। আরও কিছুক্ষণ কথা হল ওনার সঙ্গে। তাঁর বহুদিনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছিলেন আমাদের সঙ্গে। এখনও চোখ ভরা আশা আর স্বপ্ন নিয়ে প্রতিদিন ছাত্রদের তৈরি করেন আগামী দিনগুলোর জন্য। প্রশ্ন করেছিলাম, এভাবে কতদিন পড়াবেন? এক মুহূর্তও না ভেবে উত্তর দিলেন “যতদিন বেঁচে থাকব”। এমন মানুষ সত্যিই আমাদের কাছে বরেণ্য।
Eso Kichu Kori
Eso Kichu Kori10 months ago
'এই সময়'। ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯।
'এসো কিছু করি'র ২০০৬ সালে নেটওয়ার্কিং সাইট অর্কুট থেকে চলা শুরু। চলতে চলতে সঙ্গে পেয়েছে আপনাদের মত শুভানুধ্যায়ীদের। আর পেয়েছে অজস্র উজ্জ্বল ছাত্রছাত্রীকে, যারা নিজেদের প্রতিভায় গর্বিত করেছে 'এসো কিছু করি'কে।

http://www.epaper.eisamay.com/Details.aspx?id=51151&boxid=37145