হৃদ-মাঝারে

গত ১৩ ই জুন, ‘এসো কিছু করি’ আয়োজন করেছিল ‘হৃদমাঝারে’ নামে একটি মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের, সম্পূর্ণভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে।

সদ্য হয়ে যাওয়া আমফান ঘূর্ণিঝড়ে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রকোপে আজ অসংখ্য মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। তাদের খাদ্য, এমনকি পর্যাপ্ত পানীয় জলেরও সংস্থান নেই। এই অবস্থায় সরকারের ত্রাণকার্যের সাথে সাথেই বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও নেমে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে। “এসো কিছু করি”-র বহু বর্তমান আর প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরাও ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা তাদের নিয়মিত খবর নিচ্ছি। সদস্য – স্বেচ্ছাসেবকরা মিলে কিছু টাকাও তুলেছি। যাদের বাড়ি ভেঙে গেছে তারা যাতে অন্তত তাদের বাসস্থান টা সুরক্ষিত করতে পারে সেই চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রয়োজন ছিল আরও বড় মাপের কিছু করার৷ করোনার সময় সকলেই ঘরবন্দী। এই অবস্থায় কী করা যায়, সেই ভাবনার মধ্যেই জার্মানি-প্রবাসী দীপ আর সংহিতার কাছ থেকে প্রস্তাব আসে অনলাইনে একটা fund raising অনুষ্ঠান করার। দীপ, সংহিতা এবং “এসো কিছু করি” -র সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা সবাই মিলে ঝাঁপিয়ে পড়ে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা, আয়োজন, প্রচার আর টিকিট বিক্রিতে। সঙ্গে এগিয়ে আসেন সম-মনস্ক আরও কিছু সংস্থা যাঁরা এই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য নিরন্তর কাজ করে চলেছেন।

১৩-ই জুন ভারতীয় সময় রাত ন’টায় এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। এই প্রচেষ্টায় প্রযুক্তিগত সহায়তা করেছেন বেঙ্গল ওয়েব সলিউশন । দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ যারা টিকিট কেটে রেখেছিলেন তারা নিজের নিজের বাড়িতে আসন গ্রহণ করেন। সকলের কম্পিউটার বা মোবাইলে ভেসে ওঠে হৃদয়, লক্ষ্মী, তরুণ সহ এই সংস্থার একঝাঁক পুরোনো ছাত্রছাত্রীদের ছবি। তারা জানায় কিভাবে “এসো কিছু করি” তাদের প্রয়োজনের সময়ে পাশে থেকেছে আর আজ তারা কিভাবে “এসো কিছু করি”- র পাশে থাকছে। যথাযথ সময়ে স্টেজ থেকে পর্দা ওঠে। সঞ্চালক সুজয়নীলের ভরাট কন্ঠস্বর সবাইকে স্বাগত জানায়। আলাপচারিতা শুরু হয় এই অনুষ্ঠানের অন্যতম সংগঠক দীপ নাগ আর ” এসো কিছু করি”- র সভাপতি মধুমিতা দত্তের সাথে। দীপ জানায় সূদুর জার্মানিতে বসে কিভাবে এইরকম একটা অনুষ্ঠানের কথা তার মাথায় আসে। মধুমিতাদি জানায় EKK -র শুরুর দিনের কথা। আজ আমফানে আমাদের যেসব ছাত্রছাত্রীদের ঘরের চাল উড়ে গেছে, সমস্ত আসবাবের সাথে পড়ার বইগুলোও ভিজে পাতা ফুলে গেছে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত আর তাই পুরো team EKK এই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
এরপর অনুষ্ঠান শুরু হয় দেবপ্রিয়া চক্রবর্তীর গলায় “তোমায় হৃদ মাঝারে রাখবো” গান দিয়ে। অনুষ্ঠানের নামের সাথে সঙ্গতি রেখে এটাই ছিল উদ্বোধনী সঙ্গীত আর তারপরেই উনি গাইলেন “আগুনের পরশমণি”, যে গান গেয়ে “এসো কিছু করি”- র সমস্ত অনুষ্ঠান শুরু হয়। দেবপ্রিয়ার গান এই অনুষ্ঠানের তার টা বেঁধে দেয়। মূল পর্বের অনুষ্ঠানে প্রথম অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট নাট্যকার ও বাচিক শিল্পী শ্রী সৌমিত্র মিত্র। বাংলা থিয়েটারের বিবর্তন, ঘরবন্দী সময়ে পড়া কিছু বই, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা আবৃত্তি ইত্যাদির সমন্বয়ে একটা মনোগ্রাহী কথোপকথন হয় যা দর্শকদের সমৃদ্ধ করে। নানা অজানা কথা আমরা জানতে পারি। যেমন, একবার বেড়াতে গিয়ে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের প্রকাশক বন্ধু ইন্দ্রনাথ বীরভূমের জঙ্গলে হারিয়ে যান, তিন দিন পর্যন্ত তার কোনও খোঁজ ছিল না। সেই খোঁজ আর ইন্দ্র নামের প্রতিধ্বনি নিয়েই শক্তি একটি বিখ্যাত কবিতা লিখে ফেলেন।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্যায়ে তিনটি রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনান কুমকুম বাগচি। দেশ, পূজা আর প্রেম পর্যায়ের তিনটি গান দর্শকরা খুবই উপভোগ করেন।
এরপরে মঞ্চে আসেন জগন্নাথ বসু এবং ঊর্মিমালা বসু। ছোটবেলা থেকেই আমরা সবাই ওনাদের শ্রুতিনাটক শুনে বড় হয়েছি। আকাশবাণীর স্বর্ণযুগে যে কন্ঠ যাদু জাগাতো আবারও সেই কন্ঠস্বর মুগ্ধ করলো আমাদের। এই সময় কিভাবে কাটাচ্ছেন সেই নিয়ে কথা শুরু হল। বয়সের কারণে এখন সরাসরি দুর্গতদের পাশে যেতে না পারলেও এরকম অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সবসময় আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার কথা জানালেন ওনারা। জগন্নাথ বাবুর মুখে শুনলাম মিউনিখের বরফ আর রানাঘাটের পান্তুয়ার কথা৷ দু’জনেই এই সময়ের উপযোগী একটা করে কবিতা আবৃত্তি করলেন। তারপরে শোনালেন শ্রুতিনাটক, প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা “ইকেবানা”। শ্রুতিনাটক কিভাবে পড়াশুনোর সুযোগ না পাওয়া অসংখ্য প্রান্তিক মানুষের কাছে সাহিত্যের স্বাদ পৌঁছে দিয়েছে আলোচনায় উঠে এলো সেই কথাও৷


অনুষ্ঠানে পরের অতিথি ছিলেন গবেষক এবং সমাজকর্মী ডক্টর দুর্বা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমফান রিলিফের জন্য সুন্দরবনে গিয়ে ওনার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিলেন তিনি। এর মধ্যে শোনালেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়, শঙ্খ ঘোষ আর শ্রীজাত র লেখা তিনটি কবিতা।
এরপর মঞ্চে আসেন গায়িকা সায়নী পালিত। পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর ছাত্রী, বর্তমানে হিন্দি ও বাংলা ছবির প্লেব্যাক সিঙ্গার সায়নী কিন্তু নিজের একটাও গান না গেয়ে অনুষ্ঠানের আবহকে ধরে মান্না দে-র গান দিয়ে শুরু করলেন। সমগ্র দর্শকমণ্ডলীকে সুরের মূর্ছনায় ডুবিয়ে দিয়ে শেষ করলেন আশা-র কথা শুনিয়ে। “যতই বড় হোক রাত্রি কালো, জানবে ততই কাছে ভোরেরও আলো।” আশা ভোঁসলের গাওয়া অত্যন্ত জনপ্রিয় “তোলো ছিন্নবিনা…” যেন আমাদের লড়ার ভাবনাকেই প্রতিফলিত করছিল।
একদম শেষ পর্বে একটা আড্ডা হয় সমাজের বিশিষ্ট তিনজন ব্যক্তিত্বের সাথে। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক, সমাজসেবী ও নাট্যকর্মী ডক্টর অর্জুন দাশগুপ্ত। তাঁর সাথেই ছিলেন এ’সময়কার ব্যস্ততম চিত্রনাট্যকার, অভিনেতা, নাট্যকর্মী, সঞ্চালক পদ্মনাভ দাশগুপ্ত। আরও ছিলেন বিখ্যাত পরিচালক ও নাট্যকর্মী দেবেশ চট্টোপাধ্যায়। এই পুরো আড্ডাটাই যেন এই সময়ের দলিল হয়ে থেকে গেল। এই গৃহবন্দী অবস্থাও কিন্তু কারুর সৃজনশীলতাকে আটকে রাখতে পারেনি। পদ্মনাভ লিখে ফেলেছেন একটা গোটা উপন্যাস এই সময়ের ওপরে। দেবেশও জানালেন যে ছোটদের জন্য একটা বই লিখেছেন আর সাতটা স্বল্প দৈর্ঘের ছবি বানিয়ে ফেলেছেন। এছাড়াও পুরোনো হারিয়ে যাওয়া অনেক থিয়েটার আর যাত্রার ডকুমেন্টেশনের কাজেও হাত দিয়েছেন। ডাক্তার অর্জুন দাশগুপ্ত এর মধ্যে ছুটে গেছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলে মেডিক্যাল ক্যাম্প করতে। সবার কথাতেই ছিল আশাবাদ। নতুন কাজ করতে হবে। এই সময় টাকে ধরে রাখতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষ হয় সংগঠকদের সাথে একটা আলাপচারিতার মাধ্যমে। দীপ আর মধুমিতা দত্ত-র সাথে সেখানে উপস্থিত ছিল সংহিতা দত্তও যিনি প্রচুর পরিশ্রম করেছেন এই অনুষ্ঠান সফল করার জন্য। আর এদের কথার মধ্যে দিয়ে বারবার উঠে এসেছে আর একজন মানুষের নাম যিনি নিজেকে আড়ালে রাখতে চেয়েছেন কিন্তু এই সমগ্র আয়োজনটা তিনি না থাকলে হতই না। তিনি আমাদের সবার প্রিয় “এসো কিছু করি”-র ওঙ্কার দা।

এই অনুষ্ঠান থেকে আমরা কী পেলাম? একটা সুন্দর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা বা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো তো আছেই কিন্তু তার সাথেই এই কয়েক ঘন্টায় এই সময়ের একটা ডকুমেন্টেশন ধরা রইলো। এই অভূতপূর্ব সময়ে সমাজের বিভিন্ন মানুষ কী ভাবছেন কিভাবে লড়ছেন। সংস্থা হিসেবে “এসো কিছু করি” কী ভাবছে তা রেখে দেওয়া গেলো আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। একদিন আমরা এই ঝড় কাটিয়ে শান্ত পৃথিবীতে মাথা তুলে দাঁড়াবো। তখনকার জন্য কিছু তথ্য বন্দী হয়ে রইলো এই অনুষ্ঠানের ভিডিওতে। দেশ-বিদেশের কত মানুষ আমাদের পাশে এসে দাঁড়ালেন। আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেলো যে এই অবস্থা আমরা কাটিয়ে উঠবোই। এই অনুষ্ঠানেই জগন্নাথ বসুর আবৃত্তি করা কবি রনজিৎ দাস এর লাইন ধার করে বলতে পারি “বিপন্ন বিস্ময় থেকে আমরা যেন পৌঁছে যেতে পারি বিশুদ্ধ বিস্ময়ে”।

Hrid Majhare

Let us stand beside Amphan Affected Bengal, save the date 13th June 9 PM IST, Click for registration

“এসো কিছু করি” (www.ekk.org.in) একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। এই সংস্থা গত তেরো বছর ধরে বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অভাবী মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার সহায়ক হয়ে নিরন্তর কাজ করে চলেছে। “এসো কিছু করি” পরিবারের ছেলেমেয়েরা আজ অনেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। আমাদের সদস্যরা সমাজের ও দেশের যে কোনো সমস্যা নিয়ে সংবেদনশীল । কিন্তু সংস্থাগত ভাবে আমাদের কর্মকাণ্ড ‘এসো কিছু করি’র মূল লক্ষ্যেই অঙ্গীকারবদ্ধ।

সম্প্রতি একটি কালান্তক ঘুর্ণীঝড়, “আম্ফান”-এ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চল অসম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত। একদিকে মহামারীর করাল গ্রাস, অর্থনৈতিক সঙ্কট, দিনগুজরানের চরমতম সমস্যা, তার ওপর ঘুর্নীঝড়ের ভয়াল ক্ষয়ক্ষতি ও তার পরবর্তী জনস্বাস্থ্যের ওপর আগত সমস্যাগুলো আমাদের সদস্যদের ভাবিয়ে তুলেছে। “এসো কিছু করি” পরিবারের বহু ছাত্রছাত্রীদের ঘরবাড়ি এই ঘূর্ণীঝড়ের প্রকোপে তছনছ হয়ে গিয়েছে। আমাদের সদস্যরা এবং প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা, নিজেরা চাঁদা তুলে বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা পাশ করে গেছে তারা এখনো “এসো কিছু করি” পরিবারের অবিচ্ছিন্ন অঙ্গ। তাদেরও অনেকের বাড়িঘরের দশা অনুরূপ। আমরা চাইছিলাম তাদের পাশেও দাঁড়াতে।

এমত অবস্থায় জার্মানির মিউনিখ শহর থেকে এক তরুণ, শ্রী দীপ নাগ ও তার সহপাঠিনী শ্রীমতী সংহিতা দত্ত, আম্ফান বিধ্বস্ত বাংলায় কিছু অর্থ সাহায্যের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের একটি উদ্যোগ নেন । প্রবাসী ভারতীয় সংহিতা দীর্ঘদিন “এসো কিছু করি”-র পৃষ্ঠপোষক। তিনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

সিদ্ধান্ত হয় যে, যেহেতু অনুষ্ঠানটি আম্ফান বিদ্ধস্ত মানুষের সাহায্যের জন্য, তাই “এসো কিছু করি”-র ছাত্রছাত্রীদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত যে অর্থমূল্য উঠবে তা নির্ভরযোগ্য অন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনদের ভাগ করে দেওয়া হবে। ঝড় পরবর্তী অবস্থা মোকাবিলার জন্য বাংলার বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্নভাবে নিরন্তর চেষ্টা করে চলেছেন। এরকম বহু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নাম ভাবা হয় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, মহামারীর মাঝে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে যাঁরা কাজ করছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের আশু কর্তব্য। ওয়েষ্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম (WBDF) এই বিষয়ে এই মুহূর্তে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গত কয়েকদিনে সারা সুন্দরবন জুড়ে তাঁরা প্রায় ৭০টি ক্যাম্প করেছেন এবং আগামীদিনেও একাধিক উদ্যোগ নিচ্ছেন। আমরা আমাদের বাড়তি অর্থমূল্য তাদের হাতে তুলে দেব। এছাড়াও আরো যে সমস্ত সংস্থা এই ক্ষেত্রে কাজ করে চলেছেন এবং তাঁদেরও টাকাপয়সার প্রয়োজন আছে। যদি এই অনুষ্ঠান থেকে সেই পরিমাণ টাকা আসে তাহলে আমরা এরকম কিছু সংস্থার পাশেও থাকবো।


আমরা কৃতজ্ঞ আমাদের এই উদ্যোগের পাশে দাঁড়িয়েছেন বহু শিল্পী ও কৃতী মানুষ। শ্রী সৌমিত্র মিত্র, বাচিক শিল্পী, সংগঠক ও নাট্যনির্দেশক; শ্রীমতী দূর্বা বন্দোপাধ্যায়, গবেষক ও সমাজকর্মী; শ্রী পদ্মনাভ দাশগুপ্ত, অভিনেতা, নাট্যকার ও চিত্রনাট্যকার; শ্রী দেবেশ চট্টোপাধ্যায়, নাটক ও চলচ্চিত্র নির্দেশক; শ্রীমতী কুমকুম বাগচি, সঙ্গীতশিল্পী; শ্রীমতী সায়নী পালিত, সঙ্গীতশিল্পী; ডাঃ অর্জুন দাশগুপ্ত, প্রখ্যাত চিকিৎসক ও নাট্যকর্মী; শ্রীমতী মধুমিতা দত্ত, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী এবং সর্বোপরি শ্রীমতী ঊর্মিমালা বসু ও শ্রী জগন্নাথ বসু থাকছেন আমাদের এই উদ্যোগে আমাদের অনুষ্ঠানে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্বে আছেন শ্রী সুজয়নীল বন্দোপাধ্যায়।

আমাদের বিনীত অনুরোধ আপনারা আমাদের এই উদ্যোগের পাশে থাকুন। ১৩ই জুন ভারতীয় সময় রাত্রি ৯টায় ( সকাল ১০.৩০ আমেরিকার সেন্ট্রাল টাইম, বিকেল ৪:৩০ ব্রিটিশ সামার টাইম, 15:30 GMT )

টিকিটের জন্য নিচের লিঙ্ক এ ক্লিক করুন
//musianamiles.com/hrid-majhare/reg.php

পাশে ছিলাম, পাশে পেলাম

‘এসো কিছু করি’ বরাবরই তার ছাত্রছাত্রীদের সার্বিক উন্নয়নের প্রতি দায়বদ্ধ । সবরকম সমস্যাতেই আমরা ওদের পাশে থাকতে চাই। তাই প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমফান দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করার পর আমরা আমাদের বর্তমান ২০১৯-২১ ব্যাচের স্টুডেন্টদের ফোন করে তাদের অবস্থা সম্পর্কে খবর নিই। সবার সাথে কথা বলে আমরা বুঝি যে আমাদের পাঁচজন ছাত্রছাত্রীর বাড়িতে এই ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই মুহূর্তে বাড়ির মেরামতি করতে হবে অথচ করোনা পরবর্তী সময়ে সকলেই বেশ অর্থকষ্টে আছেন। আমরা ‘এসো কিছু করি’- র সদস্য-স্বেচ্ছাসেবকরা তাই নিজেরা কিছু টাকা তুলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করি। এককালীন কিছু টাকা পেলে তা বাড়ি মেরামতির কাজে লাগানো যাবে এই ছিল মূল ভাবনা। আমাদের কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হল EKK – র প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরাও খুব উৎসাহের সাথে এতে যোগদান করেছে। ‘এসো কিছু করি’-র জন্মলগ্ন থেকেই আমরা চেয়েছি আমাদের আজকের ছাত্ররাই কালকের দায়িত্ব নিক। আমরা চেয়েছি শুধু ভালো রেজাল্ট করে ভালো চাকরি পাওয়াই নয় তারা যেন সমাজের প্রতি দ্বায়বদ্ধ থাকে। তাই আজ যখন চন্দন, লক্ষ্মী, অভিষেক, শিল্পী, পার্থ, অমিত রা এগিয়ে এসে কল্যাণী খালুয়া, অঞ্জন মাইতি, সায়ন গড়াই, তন্ময় জানা আর অর্পিতা প্রধানের পাশে দাঁড়ালো তখন মনে হয় আমাদের এই চেষ্টা কিছুটা সার্থক হয়েছে।

করোনা এবং আম্ফান পরিস্থিতি | এসো কিছু করি

—-এসো কিছু করির ২০১৯ – ২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছাত্রীরা, যারা এইবার ক্লাস ইলেভেন দিয়ে টুয়েলভে উঠবে, করোনা এবং আম্ফানের জোড়া ফলার মধ্যে তারা কিরকম আছে , আর তাদের পড়াশুনো কেমন চলছে সেটা জানতে দূর থেকেই পৌঁছে যাওয়া হয়েছিল তাদের কাছে। আমরা চেষ্টা করছি, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এসো কিছু করি ঠিক যেভাবে এতদিন ওদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল, সেই ভাবে আবার ওদের পাশে দাঁড়াতে। আপনারাও এসো কিছু করি সাথে থাকতে চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আমাদের ফেসবুকের ঠিকানা, //www.facebook.com/groups/esokichukori/

বিঃ দ্রঃ নেটওয়ার্ক এর সমস্যার জন্য এখনো এই শিক্ষাবর্ষের ২ জন ছাত্র ছাত্রীর সাথে যোগাযোগ করে ওঠা সম্ভব হয়নি |
***********************************Covid-19 and Amphan Situation | Eso Kichu Kori —EKK has connected with the beneficiaries of 2019-21 academic session, who just finished their class XI exam, to know about their whereabouts in this grim situation of pandemic and Cyclone as well as to get the latest update about their studies. We are very much hopeful that we will be able to stand by them very soon in this new normal, just like EKK has done for last many years. if you want to join us, do visit our faceboo page //www.facebook.com/groups/esokichukori/
N.B. Still we are not able to connect with 2 of our students due to mobile network issue.

সোপান 2019

“এসো কিছু করি” তার সোপান প্রকল্পের মাধ্যমে উচ্চমাধ্যমিকের পর অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে কোনও সরকারি কলেজে ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়তে সুযোগ পাওয়া ছাত্র বা ছাত্রীর পাশে দাঁড়ায়। সঙ্গী হয় তার এই স্বপ্নের উড়ানযাত্রার।
এ’বছরে আমরা সোপান প্রকল্পের জন্য বেছে নিয়েছি ঝাড়গ্রাম জেলার লালগড়ের শুভঙ্কর দাস কে। লালগড়ের এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে কোনওরকম বিশেষ কোচিং ছাড়াই ও এবারের ডাক্তারি প্রবেশিকায় সাফল্য পেয়েছে। পেয়ছে S.S.K.M এর মতো কলকাতার নাম করা মেডিকেল কলেজে M.B.B.S পড়ার সুযোগ। শুভঙ্করের বাবার একটা ছোট চায়ের দোকান আছে যা থেকে সামান্যই উপার্জন হয়। ওর এক ভাই ভুগোলে অনার্স নিয়ে পড়ছে৷ স্বাভাবিকভাবেই ডাক্তারি পড়ার খরচ বহন করার ক্ষমতা শুভঙ্করের বাবার নেই। তবে আমরা ওর পাশে আছি। আমরা দেখছি অর্থের অভাবে এমন মেধাবী ছাত্রের পড়াশুনোর কোনও ক্ষতি যাতে না হয়। শুভঙ্কর জানায় ছোটবেলা থেকেই প্রত্যন্ত এলাকায় থাকার জন্য ও অনেক বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনা দেখেছে। দেখেছে প্রবল কুসংস্কারের জন্য ভুল চিকিৎসা। তাই ও চায় ডাক্তার হয়ে গিয়ে নিজের অঞ্চলের জন্য কাজ করতে। আমরা আশা রাখি ওর স্বপ্ন একদিন সত্যি হবে৷

Stars of EKK in HS 2018

Eso Kichhu Kori (এসো কিছু করি) is an organisation working for enabling the economically backward meritorious students of West Bengal to pursue their higher education for the last 10 years. Under its Project “Medha”, each year 20 students are selected on the basis of their extreme family condition and considerably good results in the Madhyamik Examination. In spite of their all odds, these students are continuously encouraged and supported to perform well in their Higher Secondary examination. Here is their performance sheet for HS 2018.

Come and join EKK(as it is popularly known) and let us support together more such talents and assure them for a bright future.

 

Stars of EKK in HS 2017

 

Eso Kichhu Kori (এসো কিছু করি) is an organisation working for enabling the economically backward meritorious students of West Bengal to pursue their higher education for the last 10 years. Under its Project “Medha”, each year 20 students are selected on the basis of their extreme family condition and considerably good results in the Madhyamik Examination. In spite of their all odds, these students are continuously encouraged and supported to perform well in their Higher Secondary examination. Here is their performance sheet for HS 2017.

Come and join EKK(as it is popularly known) and let us support together more such talents and assure them for a bright future.

Study Tour

17264433_10154850580270310_2137013873227287963_n

‘এসো কিছু করি’-র প্রোজেক্ট মেধা পরিকল্পনার সময় আমাদের বেশকিছু ভাবনার মধ্যে একটা ছিল dropout আটকানো। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছিলো মাধ্যমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক এই সময়টার মধ্যেই ছাত্রছাত্রীদের স্কুলছুট হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। অথচ এরা যদি আর কয়েকটা বছর পড়াশুনোটা চালিয়ে যেতো তাহলে এদের জীবনটাই অন্যরকম হয়ে যেতে পারতো। শুধু নিজের জীবনই নয় এমনকি নিজেরা শিক্ষিত আর স্বাবলম্বী হয়ে এদের পারিপার্শ্বিকেও এরা একটা পরিবর্তন আনতে পারতো। এই observation টা মাথায় রেখে কাজ করতে নেমে গত দশ বছরে নিশ্চিতভাবে বেশ কিছু আর্থিকভাবে দুর্বল মেধাবী ছাত্রছাত্রীকে ‘এসো কিছু করি’ dropout-এর হাত থেকে বাঁচাতে পেরেছে।

গত পয়লা এপ্রিল ঠিক এমনই এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হলাম জয়কৃষ্ণপুরের বর্ণালী গড়াইয়ের বাড়িতে গিয়ে। আমাদের এবারের বাঁকুড়া স্টাডিট্যুরের শুরুটাই হল এই চুড়ান্ত sensitive একটা case দিয়ে। বর্ণালীরা দুই বোন দুই ভাই। ক্লাস সিক্সে পড়াকালীন একরাতের জ্বরে সঠিক ডাক্তার পর্যন্ত পৌঁছতে না পেরে বর্ণালী তার মা-কে হারায়। এরপর দুই বোন মিলে সংসারের সব কাজের দায়িত্ব ভাগ করে নেয়। কিন্তু গতবছর অকস্মাৎ বর্ণালীর দিদির ব্লাড ক্যান্সার ধরা পরার পরে ওর পায়ের তলার মাটি সরে যায়। দিদিকে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয় কলকাতার নীলরতন সরকার হাসপাতালে। প্রায় তিনমাস বর্ণালী হাসপাতালেই ছিল দিদির সঙ্গে। তারপর ফিরে এসে পরীক্ষা দিলেও ঘরের সমস্ত কাজ একা সামলে সামান্যই সময় ও পড়াশুনোর জন্য দিতে পেরেছে। দীর্ঘদিন স্কুলে না যেতে পারায় অনেক বিষয় বুঝতে এখুন খুবই অসুবিধে হচ্ছে। বাবা আর ঠাকুমাও চায় না ও পড়াশুনো করুক। তার চেয়ে বর্ণালীর বাড়ির কাজ করা এখুন তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ট্র্যাডিশন মেনে দুই ভাই কোনো কাজ না করে পড়ায় মন দেয়। তারা পড়বে, চাকরি করবে। তাদের দিদি পড়াশুনোয় যতোই ভালো হোক সে সংসারের সব কাজ করবে তারপর তার বিয়ে দিয়ে দেওয়া হবে। বর্ণালী চায় nursing পড়ে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব নিজের পায়ে দাঁড়াতে। কিন্তু পরিস্থিতি তার আত্মবিশ্বাসে অনেকটাই চিড় ধরিয়ে দিয়েছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করলাম বর্ণালী আর ওর বাড়ির লোকেদের বোঝাতে কিন্তু আমাদের সময় সীমিত, দূরত্ব অনেক। ফোনে যোগাযোগ রেখে ভবিষ্যতেও যতটা সম্ভব এই চেষ্টা চালিয়ে যাব তবে লড়াই খুব কঠিন। এই মুহূর্তে ওদের রোজগারের কোনো মাধ্যম নেই। বাবা কলকাতায় থাকে দিদির চিকিৎসার জন্য। বাড়ি ভেঙ্গে পরার উপক্রম। তারই মধ্যে রান্না করে চলেছে বর্ণালী পাশে খোলা বই, দুচোখে স্বপ্ন একদিন নার্স হয়ে ওর দিদির মতো অসংখ্য রোগীর শুশ্রূষা করবে। ওর মায়ের মতন চিকিৎসার অভাবে অসময়ে চলে যেতে দেবেনা কাউকে।